১০ জুলাই ২০২০ ইং, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম:
এবার ভারতের জমি দখল করে নিলো বাংলাদেশের বিজিপি ভারতীয় পত্রিকার অপপ্রচার। নুর -জাহান জামে মসজিদ শুভ উদ্বোধন নরসিংদীতে সরকারি নির্দেশনা মেনে গণপরিবহন চলাচলের নির্দেশ ।পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার নরসিংদীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ১ মনোহরদীর খালেক ভূঁইয়া স্বপকুঁড়ি ফাউন্ডেশন ও মানবাধিকার জোট হতে সম্মাননা পদকে ভূষিত

দেশের করোনা মহামারীতে একটি বিশেষ মহল সুরেশ সরিষার তৈল নিয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে

  নরসিংদীর সংবাদ

নরসিংদীর সংবাদ, রিপোর্ট :

দেশের মানুষ যখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হিমশিম খাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত এক এক করে মানুষ মারা যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে কিছু বিশেষ মহল দেশের স্বনামধন্য ভোজ্য পণ্য প্রতিষ্ঠান সুরেশ সরিষার তৈল নিয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে ।দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারের কতিপয় আমাদের এই কাজটি করা মোটেও সমর্থিত হয়নি বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।
তারা অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন,ষড়যন্ত্রকারীদের কালো হাতের ছোয়ায় একদিকে দেশের স্বনামধন্য সুরেশ খাঁটি সরিষার তৈল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অন্নপূর্ণা অয়েল মিলের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করা এবং অপরদিকে এর সাথে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর জীবন জীবিকার অবলম্বন ধ্বংস করা । অন্নপূর্ণা অয়েল মিলে এর প্রায় ২ হাজার শ্রমিক কর্মচারী এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে দিনাতিপাত করছে।
প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে গেলে এ সকল খেটে খাওয়া মানুষগুলো ভাগ্য নেমে আসবে অমাবস্যার কালো থাবা। তারা বর্তমানে কর্মস্থানের ঝুঁকিতে দিন গুনছে। উপরোক্ত বক্তব্য গুলো অন্নপূর্ণা অয়েল মিলের মালিক সুধীর চন্দ্র সাহা নরসিংদীর সংবাদকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ।তিনি আরো জানান আমাদের এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার মানুষের কর্মস্থান করে দিয়েছি এবং সরকারকে প্রতিবছর প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয়কর দিয়ে আসছি। এগুলোর কথা চিন্তা না করে আমাদের উৎপাদিত পণ্য সুরেশ খাঁটি সরিষার তৈলের মানোন্নয়নের বিষয়ে বিএসটিআই কর্তৃক এবং কিছু মিডিয়ার ত্রুটিপূর্ণ আচরণ আমাকে মর্মাহত করেছে।দেশের করোনা ভাইরাসের মতো দুর্যোগের মুহূর্তে তারা প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতি করার জন্য বিভিন্ন অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আমাদের উৎপাদিত পণ্যের মানের বিষয়ে বিএসটিআই মানের বলে যে অপযুক্তি এনেছেন তা একান্তই প্রকৃতিক। এখানে আমাদের কোনো প্রকার ত্রুটি নেই। বিএসটিআই যে টেস্ট রিপোর্টের মাধ্যমে সরিষার তৈলে ডোলারেবল ,ইউরিক, এসিডের পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন শতকরা ৪৫% । কিন্তু সুরেশ তৈলে ইরোসিক এসিড পাওয়া গেছে শতকরা ৪৯.৫% । যাহা ৪.৫ % বেশি। কিন্তু এই বেশি টা হচ্ছে পাকৃতিক। এখানে মানুষের কোন হাত নেই। দেশে এমন কোন প্রযুক্তি ও নেই যে, যার মাধ্যমে সরিষার তৈল থেকে ইরোসিক এসিড এর পরিমাণ কমানো বাড়ানো যায়। এখানে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে-বিএসটিআই অথবা সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা অথবা কোন ব্যক্তি আমাদেরকে এ ধরনের প্রযুক্তি বা ব্যবস্থা সরবরাহ করুক । তখন যদি আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার না করি সেটাও কি আমাদের দোষ বা গাফিলতি। তখন আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সেটা হবে যুক্তিযুক্ত এবং আইনসম্মত। তানাহলে এটা হবে বেআইনি।বিএসটিআই এর নিয়ম হচ্ছে কোন পণ্যের মান তাদের নির্ধারিত মান অনুযায়ী না হলে তারা প্রথমে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিবে।এক্ষেত্রে তারা এ কাজটি না করে পণ্যগুলো মানসম্পন্ন নয় বলে উল্লেখ করে বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়াতে দিয়ে প্রচার করেছে। আর মিডিয়াগুলো কোন কিছুর প্রতি তোয়াক্কা না করে ও প্রচারে লিপ্ত হয়েছে।তাদের দায়িত্ব ছিল উৎপাদিত পণ্য কি ধরনের অনিয়ম হয়েছে তার খোঁজখবর নিয়ে সেগুলো উল্লেখ করে বিষয়টি জনগণের নিকট তুলে ধরা।তা না করে তারা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক ভাবে প্রচার করেছে এতে করে জনসাধারণের নিকট পণ্যগুলোর ব্যাপারে বিভ্রান্তিকর খবর পৌঁছেছে।এখানে বিএসটিআই এবং মিডিয়াগুলো তাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়নি বলে তিনি মনে করেন।ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। এছাড়া দেশের ৪৩ টি প্রতিষ্ঠার প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর রুজি রোজগার বন্ধ হবার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সুধীর সাহা আরো জানান ,দেশের একটি প্রথম শ্রেণীর প্রকল্প এবং চ্যানেল তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে ব্যক্তিগতভাবে তিনি তার পরিবারের বিষয় দিয়ে ২০১৮ সালে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করেছে। এবারও এ দুটি মিডিয়া আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। গত ১২ মে দেশের একটি স্বনামধন্য প্রথম শ্রেণীর পত্রিকার শেষের পাতায় এবং ১১ ও ১২ মে তারিখে একটি চ্যানেলে শুধুমাত্র সুরেশ খাঁটি তৈলের ব্রান্ডকে লিড করে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। অথচ বিএসটিআই-এর বিজ্ঞপ্তিতে আরও ৪২ টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ ছিল । তারা ৪২ টি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে একমাত্র সুরেশ খাঁটি সরিষার তৈল এর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছে। এতে করে পরিষ্কার বোঝা যায় যে ,তারা ব্যক্তিগতভাবে ঈর্ষান্বিত হয়ে কোমর বেঁধে আমার বিরুদ্ধে প্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আদালতে মামলা হয়েছে এবং বর্তমানে তা বিচারাধীন রয়েছে।এখানে আমার ভাষ্য হচ্ছে করোনা ভাইরাসের মত এই মহামারীর সময়ে যেখানে ইউরোপ আমেরিকার মত দেশে ও লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছে। সেখানে আমাদের মত দরিদ্র দেশে ক্রুটিপূর্ন অভাযোগের মাধ্যমে বেকার করে দেয়া অসংখ্য মানুষের প্রতি বিএসটিআই কর্তৃপক্ষের এটা করা মোটেও ঠিক হয়নি। একটি ব্রান্ড তৈরি করা যে কত কঠিন এবং কত কস্ট তা একমাএ তিনিই যানেন,যিনি এই ব্রান্ড তৈরি করেছেন।আমরা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে এই সুরেশ ব্রান্ড তৈরি করেছি।তবে একটি লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে গত ১২/৫/২০২০ ইং তারিখে বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে আমাদের কে একটি চিঠি দিয়েছে। অথচ ১১/৫/২০২০ ইং তারিখে বিষটি মিডিয়ায় দিয়ে প্রচার করেছে।এটা সম্পুর্ন আইন পরিপন্হি বলে আমি মনে করি। অভিগ্য মহল মনে করছেন যে প্রতিস্ঠানটি অত্যন্ত সুনামের সাথে দির্ঘ বছর ধরে বাংলা জয় করে বিশ্ব জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে – ঠিক সেই মুহুর্তে এবং দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে একটি বিশেষ মহল এ সুনামধন্য সুরেশ সরিষার তৈল নিয়ে যে ষড়যন্ত্রের খেলায় নেমেছে,তা মোটেও ঠিক নয়।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে