১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং, ৩ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম:
কক্সবাজারের পথে সোনারগাঁয়ে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির গাড়িতে আগুন নরসিংদীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার দর স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত মাধবদী স্বর্ন শিল্পী সমিতির উদ্যোগে ২৭ তম বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন নরসিংদীর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত নরসিংদীতে ডিবি পুলিশ কর্তৃক অস্ত্র সহ সন্ত্রাসী সুমন গ্রেফতার

নরসিংদীতে আলোর বাতিঘর পলাশ শিল্পাঞ্চল সরকারী কলেজ এমপি ডাঃ দিলিপ পাঠাগা

  নরসিংদীর সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার/নরসিংদীর সংবাদ-

শিক্ষা একটি পরিবারকে, সমাজকে, দেশকে, জাতিকে এমনকি পুরো পৃথিবীকেই বদলে দেয়। বদলে দেয় মানুষের চিন্তার ধরণ, বলন। একটি জাতির মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার প্রথম হাতিয়ার হল- সুশিক্ষা। মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করতে, বিবেককে প্রস্ফুটিত করতে, মনোবৃত্তিকে উদ্বেলিত করতে বহুমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। বহুমুখী শিক্ষার একমাত্র উন্মোক্ত মাধ্যম হচ্ছে লাইব্রেরী বা পাঠাগার। পাঠাগারকে একটি মহাবিদ্যালয়ের সাথে তুলানা করা যায়। সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথে, অতীত ও বর্তমানের সাথে সেতুবন্ধন স্থাপন করে পাঠাগার। এখানে হাত দিলেই হাতের স্পর্শে জ্ঞানের রাজ্যে সাঁতার কাটানো যায়। কালো কালো অক্ষরে বাঁধা হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি-সম্ভার, গুণীদের অমীয় বাণী হাতের নাগালে পেতে যার কথা প্রথমে আসে তা হলো একটি লাইব্রেরী বা পাঠাগার। অন্ধজনে আলোর দেখা, অজীব প্রাণে মনুষ্যত্বের সঞ্চার ঘটাতে পাঠাগারের কোন বিকল্প নেই। তাই পাঠাগার গড়ে উঠুক পরিবারে, সমাজে, পাড়ায় পাড়ায়। পাঠাগারে সমৃদ্ধ হোক আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি।
আজকাল তথ্য প্রযুক্তির যুগে, ইন্টারনেটের বাহুল্যতায় আমাদের তরুণ প্রজন্ম সঠিক জ্ঞানচর্চা থেকে দিন দিন বিমুখ হচ্ছে। ফেইসবুক, ইন্টারনেটের মতো সোস্যাল মিডিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রজন্ম। দিন দিন প্রজন্মে ঘূণে ধরছে, লোপ পাচ্ছে মনুষ্যত্ব। কারণ হিসেবে দেখা যায়- আমরা সঠিক জ্ঞান আহরণ করছিনা বলে। আমরা জ্ঞান অর্জনের জন্য বই পড়ি, মনের খোরাক মেটানোর জন্য বই পড়ি। এজন্য চাই হরেক রকম বইয়ের সমাহার। চাই পছন্দের বই। কিন্তু চাহিদা থাকলেও অনেক সময় সাধ্যের মধ্যে থাকেনা পছন্দের বই জোগাড় করার সামর্থ। একারণেই গড়ে উঠে গ্রন্থাগার। পাঠক সেখানে গিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে একাগ্রতা নিয়ে বই পড়েন। কিন্তু বাস্তবিকভাবে আমাদের দেশে এখনও সেভাবে পাঠাগার গড়ে ওঠেনি। প্রয়োজনের তুলনায় মানসম্মত পাঠাগারের সংখ্যা বাড়েনি। আর প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলগুলোতে পাঠাগার নেই বললেই চলে।
পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বই পড়া থেকে গ্রামাঞ্চলের শিশু-কিশোররা তাই একরকম বঞ্চিতই বটে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে কিশোরদের হাতে বই তুলে দিতে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার পলাশ শিল্পাঞ্চল সরকারী কলেজে বিগত ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ডাঃ দিলিপ পাঠাগার।নিজস্ব অর্থায়নে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন পলাশের গণমানুষের নেতা,শিক্ষানুরাগী ও নরসিংদী-২ পলাশ আসনের মাননীয় সাংসদ ডাঃ আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলিপ।
মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠা রুচিশীল ও আধুনিক এই পাঠাগারটি পলাশের বাতিঘর হিসেবে খ্যাত। ডাঃ আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলিপ মহোদয় নিজে বই কিনে এবং সংগ্রহ করে পাঠাগারে রাখেন।এ পাঠাগারকে ঘিরে এখন বই পড়ার আনন্দে মেতেছে কলেজের শিক্ষার্থীরা।
পাঠ্য বই সাহিত্য,সংস্কৃতি,গল্প,উপন্যাস,কবিতা,জীবনি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই সহ পাঠাগারে রয়েছে অনেক ধরনের দেশি ও বিদেশি লেখকদের বই।পাঠাগারটি কলেজ ভিত্তিক হলেও কতৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে যেকোন পাঠক পাঠাগারে গিয়ে বই পড়ার সুযোগ রয়েছে।
ডাক্তার আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ মহোদয় ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পলাশ শিল্পাঞ্চল সরকারি কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হিসেবে সফলতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।তার আমলে উন্নয়নমূলক কাজগুলো হল কলেজের উত্তর পাশের চারতলা অনার্স ভবন নির্মাণ,কলেজের মাঠে মাটি ভরাট,কলেজের সামনের রাস্তা পাকা করণসহ শিক্ষার মান ব্যাপক উন্নয়ন।সাম্প্রতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে অধ্যক্ষের রুম ও শিক্ষক মিলনায়তন সজ্জিত করণ।তা ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে নগদ আর্থিক অনুদান দিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করে আসছেন। এই কলেজকে সরকারিকরণের জন্য তিনি ২০০৯ সালে এমপি থাকাকালীন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন, পরবর্তীতে ২০১৬ সালে কলেজটি সরকারিকরণের তালিকা ভুক্ত হয়।
তিনি ২০০৯ সালের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ৩৬ মাসের বকেয়া বেতনের দুই-তৃতীয়াংশ তাঁর একক প্রচেষ্টায় ব্যাবস্থা করে শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে তুলে দিয়ে ভালোবাসা ও সহযোগিতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে