February 2, 2023, 4:00 am

মাধবদীতে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মাধবদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি: মাধবদীতে মাইশা আক্তার (১০) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ১ ডিসেম্বর বিকালে নরসিংদীর মাধবদী দানার কুঁড়েরপাড় গ্রামে জামিয়া ক্বওমিয়া মহিলা মাদ্রাসার বাথরুম থেকে আবাসিক শাখার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইশার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। সে মাধবদীর ভগীরথপুর গ্রামের মোঃ নেছারউদ্দিনের মেয়ে।
এর আগে চলতি বছরের ১৯ অক্টোবর একই মাদ্রাসার বাথরুম থেকে আফরিন আক্তার (১৪) নামে আরো একজন আবাসিক শাখার শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের দাবি ফাঁসিতে ঝুলে তারা আত্মহত্যা করেছে। তবে, মাইশার পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তারা মাইশার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান। তারা আরো জানান, মাইশার মৃত্যুর ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর না দিয়ে তারা নিজেরাই লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
জামিয়া ক্বওমিয়া মহিলা মাদরাসার মুহতামীম মুফতি আসানউল্লাহ বলেন, আসরের নামাজের সময় ছাত্রীরা এস্তেঞ্জা করতে গিয়ে মাইশাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে মাদরাসার হুজুর ও খাদেমকে জানায়। পরে খবর পেয়ে শিক্ষকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মাইশাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বা’দ আসর ভগীরথীপুর কবরস্থানে মাইশার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল জানান, “আমি শেখেরচর হাটে ছিলাম। শিক্ষকরা আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করে। তবে ঘটনাটি কিভাবে ঘটলো আমরা বলতে পারছিনা।”
এব্যাপারে শিশু মাইশার চাচা মাওলানা মোছলেহ উদ্দিন জানান, মাইশার বাবা নেছারউদ্দিন সকালে মেয়েকে মাদ্রাসায় গিয়ে নাস্তা করিয়ে রেখে আসে। পরে দুপুরে পারিবারিক একটি দাওয়াতে মাইশার পরিবারসহ আমরা আত্মীয়র বাড়িতে যাই। সেখানে বিকাল ৪টার দিকে মাদ্রাসার হুজুরদের ফোন থেকে কল করে জানানো হয় আপনার মেয়ে অসুস্থ। তাকে আমরা নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসছি আপনারা আসেন। পরে আমার পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পায় মাইশা মৃত। কর্তব্যরত ডাক্তার জানায় মাইশাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মাইশার চাচা আরো বলেন নিহতের শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ১০ বছরের শিশু বাচ্চা কিভাবে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করতে পারে? নিশ্চয়ই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
মাইশার ফুফা আইনুল হক জানান আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে মাইশার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম দেখতে পাই। দেখেই বুঝা যায় এটা একটি হত্যা। আমরা এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
নিহত মাইশার মা বলেন, আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তার সারা শরীরে মাইরের চিহ্ন রয়েছে। আমি খুনের বিচার চাই। মাদরাসার হুজুরই এই ঘটনার সাথে জড়িত। আমি এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
নিহতের বাবা নেছার উদ্দিনও তার মেয়ের হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেছেন।
সমাজকর্মী সুমাইয়া আক্তার বলেন, মাদ্রাসাটিতে দেড়মাসের ব্যবধানে পরপর দুইজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা রহস্যজনক। দুইজন শিক্ষার্থীই মাদ্রাসাটির আবাসিক শাখার শিক্ষার্থী এবং দুজনের লাশ মাদ্রাসাটির মুখোমুখি দুটি বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেইসাথে তিনি প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান।
রাতে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ ও মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনা সম্পর্কে মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রকিবুজ্জামান মুঠোফোনে জানান আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শণ করেছি। শিশুটির কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো মামলা করেনি। তাই কাউকে আটক করা যাচ্ছে না।’
এখন ময়নাতদন্তে রিপোর্ট আসার পর প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.