০৪ জুলাই ২০২০ ইং, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম:
নরসিংদীর শিবপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাইজ উদ্দিন মাষ্টারের দাফন,রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন, নরসিংদীতে গণপরিবহনে যাত্রী সেবা তদারকি অব্যাহত রেখেছে জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে কলেজ ছাত্রকে মারধোর যশোরের শার্শায় ইঞ্জিন চালিত ভ্যানের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু বেনাপোল বাহাদুরপুর সীমান্ত থেকে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের লাশ উদ্ধার

মুক্তিযোদ্ধা নয়ীম গহরের স্ত্রীর প্রতি কর্তব‍্য ভুলতে বসেছে সবাই, মেয়ে ইলোরা গহর

  নরসিংদীর সংবাদ

ফছিয়ার নড়াইল প্রতিনিধি/নরসিংদীর সংবাদ

মুক্তিযোদ্ধা নয়ীম গহরের স্ত্রী অসহায় দিন যাপন করছেন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের লেখক প্রয়াত নয়ীম গহরের স্ত্রী রিজিয়া গহর।
মুক্তিযোদ্ধা নয়ীম গহরের স্ত্রী বেগম রিজিয়া গহর এখন ক‍্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি সর্বোচ্চ ত‍্যাগ স্বীকার করেছেন, সন্তানদের নিয়ে করেছেন নানামুখী সংগ্রাম।সন্তানদের দাবি, দেশ নিয়েই ভেবেছেন বাবা,স্ত্রী সন্তানদের জন‍্য রেখে যাননি কিছুই।মেয়ে ইলোরা গহর বলেন ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রিজিয়া গহরকে নগদ ২৫ লাখ টাকা, রাজউকের একটি প্লট বা ফ্ল‍্যাট বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এখনো সেই প্লট বা ফ্ল‍্যাট বুঝে পাননি তার পরবিার। একাধিকবার তৎকালীন মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁরা বারবার জানান, এখন কোনো জমি নেই। তাঁর মেয়ে অভিনেত্রী ইলোরা গহর বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও পারকিনসনের রোগীর পক্ষে জমির জন‍্য কতবার মন্ত্রীর কাছে ধরনা দেওয়া সম্ভব?
রিজিয়া গহরের বয়স ৭৮ বছর। চিকিৎসার অভাবে অর্থকষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁকে।

ইলোরা গহর বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের মায়ের সব দায়িত্ব নিলেও গত সাড়ে তিন বছরে তিনি বুঝে পাননি বরাদ্দকৃত প্লট বা ফ্ল‍্যাট।প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এককালীন ২৫ লাখ টাকা পেলেও প্লট বা ফ্ল‍্যাট না পাওয়ায় নগদ অর্থ তাকে ব্যয় করতে হয় বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসার পেছনে। মায়ের শারীরিক অবস্থা এখন খুব খারাপ। ক্যানসার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। তার আগে থেকেই পারকিনসন রোগ ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর উক্তি টেনে বলেন
এই মুজিববর্ষের ভেতরেই বাংলাদেশের একটা মানুষও গৃহহীন থাকবে না”
– জননেত্রী শেখ হাসিনা
“এখনও আমাদের দেশে নদীভাঙ্গা মানুষ গৃহহারা হয়ে যায়, এখনও আমাদের দেশে কিছু মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়, যারা ভূমিহীন, গৃহহীন। আমি চাই মুজিববর্ষ আমরা উদযাপন করছি, এই মুজিববর্ষের ভেতরেই বাংলাদেশের একটা মানুষও গৃহহীন থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রীর বলেন “সেখানে আমি অনুরোধ করব… সেখানে আমার অনুরোধ থাকবে… আওয়ামী লীগের এত নেতাকর্মী… এত আদর্শের সৈনিক, আপনারা যার যার নিজের গ্রামে, নিজের এলাকায় একটু খোঁজ নেন কয়টা মানুষ গৃহহীন আছে, কয়টা মানুষ গৃহহারা আছে বা ভূমিহীন আছে। আপনারা একটু খোঁজে বের করেন। তাদেরকে আমরা ঘর করে দেব। আপনি পয়সা খরচ করতে না পারলে আমি দেব। তাদের আমরা ঘর দিয়ে যেতে চাই।” ০৭ মার্চ, ২০২০,বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র।

মেয়ে ইলোরা গহর জানান, পরিবারের জন‍্য তাঁর বাবা তেমন কিছুই রেখে যাননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য জাকারিয়া স্বপন ২০১৬ সালে তাঁর মা রিজিয়া গহরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নিয়ে যান। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এককালীন ২৫ লাখ টাকা পেলেও প্লট বা ফ্ল‍্যাট পাইনাই ইলোরা গহর বলেন, মায়ের শারীরিক অবস্থা এখন খুব খারাপ। ক‍্যানসার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে, আগে থেকেই পারকিনসন রোগ ছিল। উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরে মেয়ের বাসায় অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। ‘অভিনয় ছেড়ে দিয়েছি বলে আমার তেমন আয় নেই তবু যতটা পারি মায়ের খরচের জন‍্য বোনকে কিছু টাকা দিতে চেষ্টা করি বলেন ইলোরা।

মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের লেখক প্রয়াত নয়ীম গহরের স্ত্রী বেগম রিজিয়া গহর ক‍্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে অর্থকষ্টে দুর্বিষহ দিনজাপন করছে তার পরিবার। তার সন্তানদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দেয়া রাজউকের একটি প্লট বা ফ্লাট গত সাড়ে তিন বছরেও বুঝে পাননি তারা।

নয়ীম গহর ঊনসত্তরের গণ–আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের নেতাদের বিশেষ দূত হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা গ্রহণ করেন। বার্তাটি ছিল, ‘রাত ১২টায় অস্ত্র সমর্পণ করো না। চিটাগাং মুক্ত করো এবং কুমিল্লার দিকে অগ্রসর হও। আমি যদি মরেও যাই তাহলে আমার পূর্বের নির্দেশ পালন করো।’

প্রয়াত নয়ীম গহরের সৃষ্ট কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে-‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো,পুবের ঐ আকাশে সূর্য উঠেছে ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তাঁর ওইসব গান মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। গান লেখার পাশাপাশি তিনি একজন ঔপন্যাসিক, গায়ক, অভিনেতা ও নাট্য রচয়িতা ছিলেন।তিনি বিবিসি বাংলার ভাষ্যকার ও সংবাদ পাঠক হিসাবেও কাজ করেছেন।
সম্প্রতি প্রয়াত সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমানের সুরে নয়ীম গহরের লেখা আলোচিত দেশের গান ‘জন্ম আমার ধন‍্য হলো মা গো’ গেয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। এ ছাড়া নয়ীম গহর লিখেছেন ‘নোঙর তোলো তোলো’, ‘সাগর দাড়িতে ঝড় জাগে যদি’, ‘জয় জয় জয় বাংলা’সহ বেশ কিছু গান। ঔপন্যাসিক, গায়ক, নাটক রচয়িতা, বিবিসি (লন্ডন) বাংলার ভাষ‍্যকার ও খবর পাঠক হিসেবে তিনি ছিলেন বিশেষভাবে পরিচিত। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। ২০১৫ সালের ৭ অক্টোবর তিনি মারা যান। মুক্তিযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও নয়ীম গহর ইচ্ছে করেই মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র সংগ্রহ করেননি।

মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের লেখক প্রয়াত নয়ীম গহরের স্ত্রী বেগম রিজিয়া গহর ক‍্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে অর্থকষ্টে দুর্বিষহ দিনজাপন করছে তার পরিবার। তার সন্তানদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দেয়া রাজউকের একটি প্লট বা ফ্লাট দ্রুত বুঝে পেতে চান তার পরবিার।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে